অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬

একাত্তরের ৬ মার্চ বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের আরেকটি গৌরবের দিন। অগ্নিঝরা মার্চের এদিনে অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল ছিল গোটা পূর্ব পাকিস্তান। স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষুব্ধ বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল-সমাবেশ ও হরতাল অব্যাহত ছিল। আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে।

সকাল থেকে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। চলতে থাকে রেসকোর্স ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভার প্রস্তুতি। ৭ মার্চের জনসভার মাইকিং করা হয় শহরজুড়ে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, টঙ্গী, রাজশাহী, রংপুর, খুলনাসহ নানা জায়গা থেকে সংঘর্ষের খবর আসছেই। অনেক স্থানে বলবত থাকে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সান্ধ্য আইন। লাগাতার হরতালে অচল গোটা প্রদেশ।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যাংক ও বেসরকারি অফিস বেতন দেওয়ার জন্য খোলা থাকে। এদিন প্রদেশে প্রথম কারাবিদ্রোহ ঘটে। বেলা ১১টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট ভেঙে বেরিয়ে আসেন ৩৪১ কয়েদি। তবে কারা প্রহরীদের গুলিতে নিহত হন সাত কয়েদি। আহত হন ৩০ জন।
এরই মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস অ্যাডমিরাল এসএম আহসানকে অপসারণ করে তাঁর স্থলে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানকে। এক বেতার ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানের বিক্ষুব্ধ জনসাধারণকে ‘দুষ্কৃতকারী’ আখ্যা দেন।

বেতার ভাষণে ইয়াহিয়া খান বলেন, ‘আমি ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের প্রস্তাবিত অধিবেশন আহ্বান করলাম।’ একই সঙ্গে তিনি এ বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, ‘পাকিস্তানের অখণ্ডতা যে কোনো মূল্যেই রক্ষা করা হবে।’

এদিকে ইয়াহিয়া খানের বেতার ভাষণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ধানমন্ডির বাড়িতে আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক বসে। রাতে আওয়ামী লীগ নেতারা ওই বৈঠকে অংশ নেন।
কিন্তু পিপল্স পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো, পাকিস্তান মুসলিম লীগপ্রধান খান আবদুল কাইয়ুম খান, পিডিপিপ্রধান নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান এবং কাউন্সিল মুসলিম লীগপ্রধান মিয়া মমতাজ দৌলতানা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ভাষণকে স্বাগত জানান। লাহোরে বিকেলে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিএ সলিমী ও পাঞ্জাব প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদ সরফরাজসহ ১৫ জনকে একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের প্রস্তাবিত ভাষণ সম্পর্কে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র চলতে থাকে জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ জনসভাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত সংখ্যক নব উদ্ভাবিত পতাকা (পরে জাতীয় পতাকারূপে গৃহীত) ও জাতীয় সংগীতের ব্যবস্থা করে। ছাত্রলীগ ও ডাকসু নেতারা এক বিবৃতিতে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দান থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারের দাবি জানান।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *