ছুটির দিনে মন্ত্রিসভার বৈঠক বাজেটের দুটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হচ্ছে ডব্লিউটিওর আইএফডিএতে যোগ দেবে বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট-সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঈদের ছুটির প্রথম দিন মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল তিনটি বিষয়। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব ছিল অর্থ বিভাগের এবং একটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। প্রথম প্রস্তাব ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট-সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ-২০২৫’কে আইনে পরিণত করা। সংসদ না থাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেই সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করা যায়নি। সে কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা বিল মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
ডব্লিউটিওর আইএফডিএতে যোগ দেবে বাংলাদেশ
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্লুরিল্যাটারাল জয়েন্ট স্টেটমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ওই চুক্তির লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সহজ করা।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে চলমান ছুটির মধ্যে সহায়তার জন্য কৃষি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধর্ষণ মামলা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সমন্বিত বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ধরনের মামলায় একাধিক সংস্থা যুক্ত থাকে। সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সাড়ে ২১ হাজার কৃষক কার্ড দেবে সরকার
১০ জেলার ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সাড়ে ২১ হাজার কৃষক কার্ড দেবে সরকার। টাঙ্গাইল সদরে পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই দিন একযোগে এসব উপজেলায় এই কার্ড কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন-সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রথম ধাপে ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে। এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিকে দেওয়া হবে।
যে ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলক কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে, সেগুলো হচ্ছে– টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড় সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।
কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল ছুটির দিন বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
