ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর সুস্থ থাকতে যা করবেন
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬
আসুন জেনে নেয়া যাক ভারী খাবার গ্রহণের পর কী করবেন
হালকা গরম পানি : খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর হালকা ঈষ্ণদুষ্ণ গরম পানি পান করতে পারেন। এর সাথে একটু লেবুর রস আর সামান্য লবণ মিশিয়ে খেলে শরীর বিপাক হার বৃদ্ধি পাবে এবং টক্সিন বেরিয়ে আসবে। তবে খাওয়ার মাঝখানে পানি পান করবেন না। এছাড়া খাওয়ার পর পরই কখনই চা, কফি খাবেন না। এই ধরনের পানীয়তে ফেনোলিক নামক যৌগ ও ক্যাফেইন থাকে যা খাবার থেকে পুষ্টি শোষন করতে বাধা দেয়।
দই: যেকোন ভারী খাবার খেয়ে তার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিক খাবার খান। সবচেয়ে ভালো উপকার পাবেন টকদই খেলে। এটি দ্রুত হজমশক্তি হওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক করবে। দইয়ের সাথে ভাজা জিরা মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে আরও ভালো কাজে দেবে।
আদা এবং জিরা ভেজানো পানি: আদায় রয়েছে জিঞ্জেরল নামক উপাদান যা শরীরকে দ্রুত খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া অতিরিক্ত খাবার খেলে পেট খারাপের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। জিরাতে থাকা কারমিনেটেভ পেটের গ্যাস কমাতে সহায়ক ভুমিকা রাখে। জিরা পানি তৈরির জন্য প্যাকেটের জিরা দিয়ে পানীয় বানাবেন না।
আপেল সাইডার ভিনেগার : আপেল সাইডার ভিনেগার হজমের জন্য চমৎকার। পানির সাথে মিশিয়ে খেলে এটি পাকস্থলীতে আরও অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে যা খাবার ভাঙ্গার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারী খাবারের আগে বা পরে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে পেট ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
ফল : আমরা অনেকেই জানি ফল খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে এনজাইমসমৃদ্ধ ফল বেছে নেয়াই ভালো। যেমন পেঁপে বা আনারস। পেঁপেতে থাকা পাপাইন এনজাইম এবং আনারস থাকা ব্রোমেলেন এনজাইম প্রোটিনকে নরম করে যা ভারী খাবার হজম করে তোলে। কিন্তু যাদের পেটের সমস্যা আগে থেকেই যেমন আইবিএস জনিত তাদের জন্য ভালো নাও হতে পারে। তারা এসব খাবার বিকালে বা সন্ধ্যায় গ্রহণ করতে পারেন ।
ডিটক্স পানীয়: ভারী খাবারের পরে পানিতে সামান্য লেবু মিশিয়ে শসা, পুদিনা কিংবা তেতুল পানিও খেতে পারেন ডিটক্স করে। এতেও হজমশক্তি উন্নত হবে।
হাঁটুন : খুব বেশি খাওয়ার পরে হঠাৎ শরীরচর্চা করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এর পরিবর্তে হালকা হাঁটাহাটি করতে পারেন। কিন্তু ভারী ব্যায়াম করবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে খাবারের পরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটলে হজমশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও থাকে।
লেখক : পুষ্টিবিদ রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর
