সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৭

এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় খাবার পানির বোতল ছাড়া একবার ব্যবহার্য সব ধরনের প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছেন, মেলায় অংশ নেওয়া যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবহারে জন্য পলিথিন ব্যবহার করবে, তারা সেরা প্যাভিলিয়ন বা স্টলের পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না।
ত্রিশতম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন। পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যেখানে আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হবে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা। সেদিন সকাল ১০টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মেলার উদ্বোধন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান এবং ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বছরে উল্লেখ করার মতো একটি বিশেষ বিষয় হচ্ছে যে, এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ কম দামে সরবরাহ করা হবে। পানি মানুষ কিনে খায়, এখনও কাঁচের বোতলে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী বছর থেকে ডিস্পেন্সার দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এ বছর সে ব্যবস্থাপনা করতে না পারায় পানির বোতল ব্যবহার করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মেলায় বিদেশি উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকবে ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিটিং কর্নার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে দুটি শিশু কর্নার। পণ্য প্রসার ও বিপণনের জন্য মেলায় থাকবে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নারী, প্রতিবন্ধী কুটির, তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন, হস্তশিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি প্রদর্শন করা হবে।

স্টল-প্যাভিলিয়ন কমানো হয়েছে
এবার বিভিন্ন ক্যাটেগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছরের মেলায় মোট ৩৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
এবারের মেলায় স্টল-প্যাভিলিয়ন কমার কারণ জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি করা হয়েছে। গতবারের অভিজ্ঞতার আলোকে একটু আরও সুন্দর আয়োজনের জন্য এ ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় পর্যাপ্ত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এমন না যে, গতবারের তুলনায় এবার কম সাড়া পাওয়া গেছে। পরিকল্পনাই ছিল এবার ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে।

টিকিটের দাম 
মেলার টিকিটের দাম জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের (১২ বছরের নিচে) ক্ষেত্রে ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা তাদের কার্ড প্রদর্শন করে বিনা মূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মাসব্যাপী মেলাটি সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। স্পট টিকিট কেনার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ করা যাবে।

যাতায়াতের সুবিধা
ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে রেয়াতি মূল্যে ‘পাঠাও’ সার্ভিস। মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান বা খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি শাটল বাস চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *