স্বস্তির ঈদযাত্রা শুরু, উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গতকাল মঙ্গলবার লঞ্চে ভোলার উদ্দেশে যাত্রা করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তবে আগের মতো প্রচণ্ড যানজট ঠেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত যেতে হয়নি তাঁকে। মোহাম্মদপুরের বছিলায় নতুন চালু হওয়া লঞ্চঘাট থেকে ভোলার ইলিশাগামী ‘এমভি টিপু-৬’ লঞ্চে উঠেছেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সদরঘাট হয়ে ইলিশা পর্যন্ত যাবেন তারা।

দুপুরে বছিলা লঞ্চঘাটে বেসরকারি চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এতদিন লঞ্চ ধরতে মোহাম্মদপুর থেকে সড়কপথে সদরঘাট যেতে হতো তাদের। সে সময় ১০-১২ কিলোমিটার রাস্তায় যানজটের কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এবার ঈদুল ফিতরে বছিলায় নতুন লঞ্চঘাট হওয়ায় বেশ সুবিধা হয়েছে তাদের। এলাকার যাত্রীদের সদরঘাট পর্যন্ত যেতে হচ্ছে না।

নৌপথের যাত্রীদের স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে গত সোমবার বছিলা লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় বছিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিন রুটে এমভি টিপু লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ঘাটটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন বিকেল পর্যন্ত বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের আওতায় আরও পাঁচটি লঞ্চ নির্দিষ্ট গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তত্ত্বাবধানে বছিলা লঞ্চঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এখনও সেভাবে সাজানো যায়নি। দ্রুত এটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

লঞ্চঘাট ঘুরে যাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যেও বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে প্রথম দিনে যাত্রীর ভিড় তেমন ছিল না। দর্শনার্থী দেখা গেছে বেশি। মোহাম্মদপুর ও আশপাশের মানুষ সকাল থেকে লঞ্চঘাটে এসে ঘুরে দেখেছেন।

কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বেশ আগে থেকেই লঞ্চঘাটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ঈদুল ফিতর চলে আসায় নতুন সরকারের আগ্রহ এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে স্বল্পসময়ের নোটিশে ঘাটটি চালু করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে আপাতত ছয়টি লঞ্চ দিয়ে বিশেষ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। তবে যাত্রীর ভিড় বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া চাহিদা বাড়লে ঈদের পরও নিয়মিতভাবে এখান থেকে লঞ্চ চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঘাটের পন্টুনে বিশেষ সার্ভিসের লঞ্চগুলো নোঙর করে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। ঘাটের প্রবেশমুখে অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং একটি যাত্রী বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্রামাগারে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও পানীয় জলের সুবিধা রাখা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত জনবল আছে। লঞ্চ চলাচলের সময়সূচি এবং ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি টিপু সদরঘাট-হাকিমুদ্দিন রুটে যাত্রা শুরু করেছে। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় সদরঘাট-শরীয়তপুর রুটে এমভি ইমাম হাসান-৫; বেলা ১১টায় চাঁদপুরগামী এমভি ঈগল-৪; দুপুর ১২টায় ভোলার ইলিশা অভিমুখে এমভি টিপু-৬ এবং বেলা দেড়টায় গলাচিপাগামী এমভি শরীয়তপুর-৩ লঞ্চটি বছিলা ঘাট ছেড়ে যায়। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৫টায় ভোলার ইলিশার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি ইয়াদ-১। প্রতিটি লঞ্চ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ীই ঘাট ছেড়েছে। ফলে যাত্রীদের কোনো দুর্ভোগে পড়তে হয়নি।

লঞ্চঘাটে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা এমভি শরীয়তপুর-৩ লঞ্চের কেরানী রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, প্রথম দিন বছিলা ঘাট থেকে যাত্রী তেমন পাওয়া যায়নি। তবে সদরঘাট থেকে অনেক যাত্রী আগাম টিকিট বুকিং দিয়ে রেখেছেন। দুই জায়গা মিলিয়ে প্রথম দিনের ঈদযাত্রায় তাঁর লঞ্চের কেবিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা ইনসানুর রহমান জানান, সদরঘাট টার্মিনালের ওপর চাপ কমাতেই বছিলায় নতুন ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। এতে মোহাম্মদপুর, বছিলা, ধানমন্ডি, গাবতলী, আশুলিয়া ও সাভার এলাকার যাত্রীরা সদরঘাট না গিয়ে এই ঘাট দিয়ে নৌপথে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। ধীরে ধীরে যাত্রীর ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। লঞ্চঘাটের ভিজিলেন্স টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নৌপরিহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মহিবুল হেকিম।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *