প্রেমিক জুটিকে গাছের শিকলে বেঁধে নির্যাতন
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬
ঈশ্বরদীতে প্রেমের নামে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রেমিক জুটিকে নির্যাতন করা হয়েছে। বুধবার উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়েরদাঁইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিওচিত্র গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী তরুণ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে ভাড়ইমারী খড়েরদাঁইড় গ্রামের ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক আছে। অতীতেও মেয়েটির বাড়িতে এসেছেন ওই তরুণ। বুধবার তিনি প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এলে প্রতিবেশী কয়েকজন তাদের ঘরে ঢুকে আটক করে। পরে দুজনকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। এ সময় দুজনেরই পায়ে তালা মেরে রাখে। তাদের দীর্ঘক্ষণ নানা কটু কথা শোনানো ছাড়াও শারীকিভাবে নির্যাতন করা হয়। ভিডিওতে এসবের দৃশ্য দেখা গেছে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। তরুণ-তরুণী তাদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, এ ঘটনার শুরু করেন একই এলাকার জহুরুল ইসলাম ও রাকিব আলম নামের দুই যুবক। তারা প্রেমিক-প্রেমিকাকে ধরে একটি গাছে বাঁধার কথা বলেন। তখন অনেকেই অতিউৎসাহী হয়ে তাদের বেঁধে ফেলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকিব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। জহুরুল ইসলামের দাবি, ‘ওই যুবক-যুবতী অনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন, এ খবর পেয়ে আমরা অনেকেই তাদের হাতেনাতে ধরেছিলাম। যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য বাঁধা হয়। তবে মেয়েটির পায়ে শিকল ও তালা কে মেরেছিল, তা বলতে পারব না।’
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পাবনা জেলা মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এটি অমানবিক কাজ। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে, ঘটনাস্থল ঈশ্বরদী ও পাবনা সদর থানার সীমান্ত এলাকায়। বিষয়টি সদর থানাকে জানানোর পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, ঈশ্বরদী থানার মাধ্যমে জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ ও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
