একই ছাতার আওতায় আনা হবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

 প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীয় আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের সমন্বিতভাবে একই ছাতার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। রোববার সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে সকাল ১১টায় স্পিকার  হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।

বিএনপি দলীয় সদস্য কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতার ভাতা সরবরাহ পর্যায়ে নানা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। অনেকেটা কাছে টাকা দাবি করা হয়। এটা অবশ্যই একটি দুর্নীতি। আমাদের চেষ্টা থাকবে সরবরাহ কার্যক্রমের বিষয়টি যতটা সম্ভব স্বচ্ছতার মধ্যে নিয়ে আসা।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নামে বড় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রমান্নয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্ত সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা থকাবে। বর্তমানে আমরা অত্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছি। এর থেকে দেশকে যেমনি উঠিয়ে দাঁড় করাতে হবে। তেমনি আমরা চাইবো সুবিধাভোগীরা যেন উপকৃত হয়। এজন্য একটি সম্মিলিত কাঠামোর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের একটি সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার।

বিএনপি দলীয় সদস্য নোয়াখালী-২ আসনের জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে তালিকাটা আমাদের হাতে রয়েছে তা আমরা যাচাই করছি। ফ্যাসিস্ট (আওয়ামী লীগ) আমলে যে তালিকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা সংশোধন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসবো।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত সময় তালিকা তৈরিতে অনেক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার। বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে আমরা এটা করবো। এ লক্ষ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি।

জামায়াতে ইসলামীর সদস্য নড়াইল-২ আসনের আতাউর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্ত্রী, আমরা সকল ধরনের স্বজনপ্রীতি ও বন্টন পর্যায়ের সব ধরনের অনিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করতে চাই। বিগত সময়ের না পাওয়ার বেদনাসহ নানা তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য আমরা সমতা বজায় রেখে সুবিধাগুলো দেওয়ার চেষ্টা করব।

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ হবে

সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। আশা করছি এটি কাটিয়ে শিগগিরই আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো। এক্ষেত্রে কারিআনা পাশধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকে প্রাধান্য নিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। আমার কাছে এটাকে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আমরা অংশীজনের সাথে আলোচনা করে সকলের অভিমত নিয়ে ভর্তির বিষয় চিন্তা করবো। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন মেনে যুগোপযোগী করা যায় কী না সেই বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ সব শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনার কাজ করছি। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহসানুল হক বলেন, সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *