এলপিজি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ভোক্তার বিড়ম্বনা কমাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়বে

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ক্রয়ে ভোক্তা পর্যায়ের বিড়ম্বনা কমাতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কেউ যাতে বাজারে কোনো ধরনের অপব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়েও বাড়তি তদারকি থাকবে। এসব উদ্যোগের ফলে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের সরকার নির্ধারিত পর্যায়েই ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজির বর্তমান বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, গত কয়েক দিনে এলপিজি নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সরবরাহে ঘাটতির কথা এসেছে। সরকার-নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও কিছু এলাকায় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির খবর মিলেছে। ভবিষ্যতে যাতে সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকে এবং খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, সহায়ক সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কিছু বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। সেগুলো নোট নেওয়া হয়েছে। যতটা সম্ভব সমাধান করে যাতে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট থাকবে।

দাম আগের পর্যায়ে থাকবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈঠকে মূলত আমদানিকারক ও বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন। খুচরা পর্যায়ে কিছু বিক্রেতা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন, যার সঙ্গে আমদানিকারকদের সরাসরি সম্পর্ক নেই। ভোক্তারা যেন অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দাম আগের জায়গায় আসবে।

তবে আমদানিকারকরা আমদানি মূল্য পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যদি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তাদের দাবি যৌক্তিক ও বিবেচনাযোগ্য হয়, তাহলে তা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। কেউ লোকসান করে ব্যবসা চালাতে পারেন না।

এলপিজির দাম বাড়ছে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তিনি বলেন, এলপিজি আমদানির জন্য ৩৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া আছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টি কোম্পানি মোট আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ করে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক অপারেটর ও আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, যা বাজারে শূন্যতার একটি কারণ। এ ছাড়া অধিকাংশ আমদানিকারক তাৎক্ষণিক বাজার থেকে গ্যাস কেনেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যান না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা তাদের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। আরও একটি বিষয় হলো অনেক প্রতিষ্ঠানের বড় ব্যবসা থাকায় ব্যাংকের একক ঋণসীমা তাদের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব বিষয় সরকার বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে।
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সংরক্ষণাগার নিয়ে সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি আমদানিকারকরা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। করপোরেশন চাইলে তাদের সংরক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে। এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *