সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৯

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত প্রধান সংস্কার উদ্যোগগুলো নিয়ে ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে সরকার। বইটিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন খাতে নেওয়া সংস্কারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজপথে নেমে তরুণ-তরুণীসহ লাখো মানুষ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং গভীর সংকটকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্যে ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনে রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে পড়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল; বিচার বিভাগে দুর্নীতি ও হস্তক্ষেপের কারণে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছিল এবং নাগরিক সমাজের কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের সঙ্গে কাজ করে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে। বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনগুলোর সুপারিশ ও সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার গ্রহণ করা হয়।

প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি আইন প্রণয়ন করেছে এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ সংস্কার ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া গেছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যৌথ জলতথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্কহার কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়েছে।

জবাবদিহি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রেস উইং জানায়, পতিত সরকারের আমলের শতাধিক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তদন্তের মুখে ১২ শতাধিক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক অধীনে আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *