জনস্বার্থবিরোধী জ্বালানি চুক্তি প্রকাশ ও বাতিল করুন

 প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬

দেশের জ্বালানি খাতে করা জনস্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো প্রকাশ এবং বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা পায়, জাতীয় সক্ষমতা বাড়ে এবং লুণ্ঠনমূলক তৎপরতার অবসান ঘটে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জ্বালানি রূপান্তরে বিনিয়োগ চুক্তি ও জনস্বার্থ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সভা হয়। এতে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান বিশ্বরাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী আয়, কর্মসংস্থান ও নিত্যপণ্যের দামের ওপর। তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো দেশি-বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থে নানা ধরনের চুক্তি ও নীতি গ্রহণ করায় দেশের জ্বালানি খাত আমদানি ও ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব এখন আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা এত বেশি না হলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এতটা গভীর হতো না। জনস্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো প্রকাশ এবং প্রয়োজনে বাতিল করতে হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মায়ীদ বলেন, বিশেষ আইনের আওতায় টেন্ডার ছাড়াই যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি হয়েছে, এর অনেকগুলোতে অনিয়ম হয়েছে।
সভায় ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলা হলেও নীতিনির্ধারণে সমতার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। জ্বালানি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্য এবং জ্বালানি মিশ্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ক্যাব যুব সংসদ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে আবার সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানো, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স,  বিশেষজ্ঞ রাজেকুজ্জামান রতন, পরিবেশবিদ জাকির হোসেন এবং ঢাবি শিক্ষার্থী নাজিফা তাজনূর।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *