দর হারিয়েছে ৮১ শতাংশ শেয়ার

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল দেশের শেয়ারবাজার। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর গত সপ্তাহজুড়ে দরপতনে ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রায় ৮১ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। রোববারের বড় পতনের পর সোমবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা গেলেও শেষ তিন দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এক সপ্তাহে বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ, নেমেছে ৫৬০০ পয়েন্ট থেকে ৫২৪০ পয়েন্টে। একই সঙ্গে ভালো ও বড় শেয়ারগুলো নিয়ে হিসাব করা বেঞ্চমার্ক সূচক হারিয়েছে সোয়া ৭ শতাংশের বেশি। লেনদেনও নেমেছে অর্ধেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে শেয়ার বিক্রি করায় বাজারের এই দশা। অন্য সব দেশে শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা পতন হওয়ায় এ পতন আরও দীর্ঘায়িত হয় কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত সবাই।

এর কারণ বিশ্লেষণে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, শেয়ারবাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীনির্ভর। অন্য দেশে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি হলে তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো মিউচুয়াল ফান্ড আছে, দেশের শেয়ারবাজারে তা নেই। তা ছাড়া এমন কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও নেই, যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শেয়ার কিনতে পারে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনযোগ্য ৩৫৫ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ২৯১টির দর কমেছে। কমপক্ষে ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে ২৮১টি। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ৩৪টির দরও কমেছে। ২৪ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে রহিমা ফুড করপোরেশন। প্রায় ২০ শতাংশ দর হারিয়ে পরের অবস্থানে প্রগতি লাইফ এবং বিএটি বাংলাদেশের দর কমেছে ১৭ শতাংশের বেশি। আলোচিত শেয়ারগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার দর কমেছে পৌনে ১৩ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের পৌনে ১২ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ১০ শতাংশ এবং লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্টের সোয়া ১০ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধনি কোম্পানির খাত ব্যাংকের লেনদেনযোগ্য ৩১ কোম্পানির মধ্যে ২৫টি দর হারিয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে চারটির দরবৃদ্ধি সত্ত্বেও এ খাতের গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে। বীমা খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৫৭টিরই দর কমেছে। এর মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর দর কমেছে গড়ে সর্বাধিক ১২ শতাংশ। সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো গড়ে সোয়া ৬ শতাংশ দর হারিয়েছে।
দরপতনে শেয়ার কেনাবেচাও কমেছে। আগের সপ্তাহে যেখানে দৈনিক গড়ে ৭২৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, যা ৬৯৬ কোটি টাকায় নেমেছে। তবে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে কেনাবেচা হয়েছে ৪৫৯ কোটি টাকার শেয়ার।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *