ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:

২০২৫ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিয়েছে যা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের কঠোর পাল্টা শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও দমে যাননি এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। বরং আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি এখন বিশ্বব্যাপী ঢালাও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গা হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ। ট্রাম্পের আগের ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯ শতাংশ শুল্কের একটি বিশেষ চুক্তি হয়েছিল। এখন আদালতের রায়ে আগের শুল্ক কাঠামো বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই ১৯ শতাংশের চুক্তিটিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। চুক্তিটি যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় তবে বাংলাদেশ নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের আওতায় পড়বে। আপাতদৃষ্টিতে শুল্কের হার কম মনে হলেও এই নীতিগত অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে শুল্কের হারের চেয়েও বড় সমস্যা হলো স্থিতিশীলতার অভাব। যখন কোনো দেশের বাণিজ্য নীতি ঘনঘন পরিবর্তিত হয় তখন মার্কিন ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদী কার্যাদেশ দিতে ভয় পান। নীতিগত নিশ্চয়তা না থাকলে বড় আমদানিকারকরা বিকল্প উৎসের সন্ধান করেন যা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে ধস নামাতে পারে। এই দোদুল্যমান অবস্থা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর ট্রাম্প এখন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। এই আইনের অধীনে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যরীতির অজুহাতে শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছেন। তার এই জেদি মনোভাব প্রমাণ করে যে তিনি মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও নিশ্চিত করেছেন যে প্রশাসন নতুন এই আইনি পথে শুল্ক কার্যকর করার জন্য কাজ শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই বললেই চলে। বিশ্লেষকরা মনে করেন মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে এখন নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের মান বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া এই বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধ মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *