দ্বিতীয় ওয়ানডেতে চার স্পিনারের ছক বাংলাদেশের
টনি হেমিং পিচ রোল করছিলেন রোলার চালিয়ে। বাংলাদেশে সচরাচর এ দৃশ্য দেখা যায় না। হেমিংয়ের এটা করার কারণ হতে পারে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ওয়ানডের উইকেটটা মনের মতো করে বানানোর জন্য। মেহেদী হাসান মিরাজরা যাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিন বোলিং দিয়ে সহজে কুপোকাত করতে পারেন। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের উইকেটও যে টার্নিং উইকেট হবে, তা মোটামুটি অনুমেয়। এ কারণে বাংলাদেশ দলের স্পিন বিভাগে নাসুম আহমেদকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই বলে বাঁহাতি এই স্পিনারকে ম্যাচ খেলাবে সে রকম নাও হতে পারে। মিরপুরে খেলা হওয়ায় আরেক বাঁহাতি তানভীর ইসলামকে বিশ্রাম দিয়ে নাসুমকে সুযোগ দিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে টনি হেমিং কেমন উইকেট বানাতে পারলেন সেটার ওপর।
লাইন-লেন্থ ধরে বোলিং করায় পারদর্শী নাসুম আহমেদ। তাঁর বোলিং ইকোনমিও ভালো। মিরপুরের টার্নিং উইকেটে তানভীরের চেয়েও নাসুমের ভালো করার সম্ভাবনা বেশি দেখেন বিশেষজ্ঞরা। তাই কালকের ম্যাচের একাদশে তানভীর ইসলামের জায়গায় নাসুম আহমেদকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রথম ম্যাচে তানভীরের পারফরম্যান্সের কারণেই এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি গত ম্যাচে ১০ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। বাঁহাতি এই স্পিনার উইকেট টেকিং ডেলিভারি তেমন একটা দিতে না পারলেও রিশাদ হোসেন ছিলেন দুর্বার। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ছন্দে ছিলেন। টাইগার এই লেগ স্পিনার মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেনদের সঙ্গী হয়েছেন ওয়ানডে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করে। তিনি এই প্রথম এমন পারফরম্যান্স দেখান এক দিনের ক্রিকেটে।
এই লেগ স্পিনারের কাছ থেকে কালকের ম্যাচে এমন ক্ষুরধার পারফরম্যান্স নাও পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে স্পিন বিভাগকে সমৃদ্ধ করতে দল বড় করা হয়েছে বলে জানায় নির্বাচক প্যানেল। উইকেট স্পিন সহায়ক হলে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে চারজন স্পিনার খেলানোর পক্ষে জাতীয় দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ‘প্রথম ম্যাচে যে উইকেট ছিল, সে রকম থাকলে পরের দুই ম্যাচে স্পিনার বেশি খেলালে ভালো। নাসুম আহমেদকে নেওয়া হলে একাদশ থেকে একজন পেসার কমাতে হবে।’
সাকিব আল হাসানের কারণে ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বোলিং নিয়ে বিলাসিতা করার জায়গা ছিল বাংলাদেশের। মেহেদী হাসান মিরাজ স্কোয়াডে যোগ হওয়ার পর থেকে সেটা আরও খানিকটা বেড়েছে। সাকিব না থাকায় এখন একজন বাঁহাতি স্পিনার নিয়ে খেলতে হয় বাংলাদেশকে। তাই ১৬ জনের স্কোয়াডে একাধিক বাঁহাতি স্পিনার নেওয়ার সুযোগ থাকে না। দেশে খেলা হওয়ায় দ্বিতীয় বাঁহাতি স্পিনার নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক।
নাসুম সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছিলেন। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের খারাপ আচরণের শিকার হওয়ার পর থেকে জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি টি২০ ক্রিকেটে ভালো করলেও ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজের পছন্দ ছিলেন তানভীর ইসলাম। এ কারণে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে তানভীর ওয়ানডে খেলছেন। নাসুমকে ওয়ানডে দলে নেওয়ার ব্যাপারে এবার নমনীয় হতে হলো মিরাজকে। এই সিরিজে ভালো করলে ১৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা বাঁহাতি নাসুমকে আস্থার জায়গায় নিতে হতে পারে অধিনায়ককে।
