হরমুজে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন নিয়ে মার্কিন মিত্ররা যা বলছে
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের পশ্চিমা মিত্ররাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য ও সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত ও মসৃণভাবে এগোয়।’
জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণ বিষয়ক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জাহাজ মোতায়েনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি দিক বেশ কঠিন।
এদিকে ফ্রান্স চাইছে হরমুজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হোক। তখন তারা প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের চেষ্টা করবে। যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সঙ্গে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে প্রণালির অবস্থা খুব শিগগিরই স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ নেই। সম্প্রতি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, হরমুজ আরো কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত। আর খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
শুধু সরবরাহ পথ নয়, অন্যান্য স্থাপনা ঘিরেও উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই। রোববার বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি বলেছে, তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং অঞ্চলে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা প্রথম দফায় পাল্টা আঘাত করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদে ও পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, ওই ড্রোন হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
