চবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন হল সংসদের প্রতিনিধিরা
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ |
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহজালাল হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। হলের নানা অব্যবস্থাপনা ও হল সংসদকে অবজ্ঞা করার অভিযোগে উপাচার্যকে তাঁর নিজ গাড়িতে প্রায় ২০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন হল সংসদের প্রতিনিধিরা। এসময় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান ছাত্র প্রতিনিধিদের এই ঘটনার জন্য ‘ভুক্তভোগী হতে হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে শাহজালাল হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতের পর প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সকাল ১০টার দিকে ফিরে যাওয়ার সময় হল সংসদের প্রতিনিধিরা হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চান। অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্য তাঁদের কথা শুনতে না চেয়ে গাড়িতে উঠে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ি আটকে দেন। হল সংসদের প্রতিনিধিদের দাবি, শাহজালাল হলের রিডিং রুম, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এক্সটেনশন, মসজিদ, হল সংসদের কার্যালয়, হলের মাঠ, ক্লাব রুম, ডাইনিংসহ সার্বিক সংস্কারের প্রয়োজন।
শাহজালাল হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. আলা উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের হলের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয়ে বারবার জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আজকের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের কোনো কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি আমাদের কথা না শুনেই গাড়িতে উঠে যান। এর প্রতিবাদেই আমরা তাঁকে অবরুদ্ধ করি। পরে সহ-উপাচার্য ও প্রক্টরের আশ্বাসে আলোচনায় বসতে রাজি হই।’
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘হলের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক সুবিধা নেই। রিডিং রুমে পড়ার পরিবেশ নেই, কক্ষগুলো বসবাসের অযোগ্য, ডাইনিংয়ের খাবারের মান খারাপ। হল সংসদের কক্ষও অনুপযুক্ত। এতদিন প্রভোস্ট স্যারকে সম্মান করে কোনো পদক্ষেপ নিইনি। কিন্তু আজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিষয়েও আমাদের কিছু জানানো হয়নি, যা আমাদের বাধ্য করেছে এই পদক্ষেপ নিতে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আজকের ঘটনার পর প্রভোস্ট স্যার বলেছেন—আজকের কাজের জন্য আমাদের ভুক্তভোগী হতে হবে। বিষয়টি আমাদের কাছে হুমকির মতো মনে হয়েছে। কারণ পরীক্ষার ফলাফলসহ অন্য বিষয়ে এর প্রভাব পড়তে পারে।’
হুমকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি, এর একটি পরিণতি আছে, তোমরা আজ যা করেছ তার জন্য ভুক্তভোগী হতে পার। আমি কাউকে হুমকি দেইনি। আমি তো বলিনি, মারব বা পেটাব। আমার সেই ক্ষমতাই বা কোথায়। ওরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী, আমি তাদের কীই–বা করতে পারি।’
ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হল সংসদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ ও হল সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রীড়া সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। হল সংসদের ১৪ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা সব সময় সম্ভব হয় না। শাহজালাল হল আদৌ রাখা যাবে কিনা, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্কারকাজ করেছি। হলের সমস্যা আছে এটা সত্য, তবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে টুকটাক মনোমালিন্য হতেই পারে। বিষয়টি খুব বড় কিছু নয়। আজ বিকেল চারটার দিকে আমরা আলোচনায় বসছি। পুরোনো হল হওয়ায় কিছু অভিযোগ রয়েছে। আলোচনা হলে সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
