ক্রিকেটে বেসবলের ছোঁয়া অ্যালেনে

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬

বছরের একটা লম্বা সময় তিনি সানফ্রান্সিসকোতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে সেখানকারই একটি দলের হয়ে খেলেন ফিন অ্যালেন। ক্রিকেট যুক্তরাষ্ট্রের সারা মৌসুমের খেলা নয়, তাই সেখানে গিয়ে মাঝে মাঝে বেসবলের স্টেডিয়াম ওকল্যান্ড কলোসিয়ামে গিয়ে ফিটনেস ট্রেনিং করেন। এতে ওকল্যান্ড অ্যাথলেটিকস বেসবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মেলামেশা বাড়ে তাঁর। তবে সেখান থেকেই কি বেসবল আর ক্রিকেটের ‘ক্রস স্পোর্টস টেকনিক’ রপ্ত করেছেন? সেটা জানা যায়নি। তবে বেসবলের কিছু কৌশলে যে তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন, তা স্পষ্ট। পায়ের বেস, ব্যাট চালানোর সুইং আর্ক, ব্যাটের সুইট স্পট, শরীরের মোচড়– সব কিছুতেই ক্রিকেটে বেসবলের ছোঁয়া এনেছেন কিউই ব্যাটার ফিন অ্যালেন, যার প্রমাণ মিলেছে ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর ৮টি ছক্কায়। আসলে গেল বছর সানফ্রান্সিসকোর এই বেসবল মাঠেই এক ইনিংসে ১৯ ছক্কা হাঁকিয়ে টি২০ ম্যাচে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন অ্যালেন। তখন স্টেডিয়ামের দর্শকরা তাঁর এই ছক্কাগুলোকে বেস বলের ‘হোম রানের’ সঙ্গেই তুলনা করেছিলেন।

আসলে নিউজিল্যান্ডের এই হার্ডহিটার নিজেকে চেনাতে চেয়েছিলেন অনেক আগেই। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যেন শুধুই অবিচার হয়েছে। ২০২১ সালে প্রথমবার আইপিএলে বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ডাক পান। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাঁর টানা তিন মৌসুম সেখানে শুধুই সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে। একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ হয়নি। বিধ্বংসী এই প্রতিভার মূল্যায়ন করেনি বেঙ্গালুরু কোহলি-ডুপ্লেসিসদের মতো তারকা থাকায়। একসময় সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বের বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতে খেলবেন। নিউজিল্যান্ড বোর্ডের চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে তাঁর জন্য একটি ‘ক্যাজুয়াল চুক্তি’ দাবি করেন, যা কিনা কেন উইলিয়ামসন আর টিম সাউদিকে দিলেও অ্যালেনকে দেইনি বোর্ড। এবারও যেমন চুক্তিতে না থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। এবার কলকাতা নাইট রাইডার্সেও ডাক পেয়েছেন। ইডেন তাই সেমিফাইনাল ম্যাচে তাঁর ৩৩ বলে ১০০ রানের ইনিংস দেখে বেশি আহ্লাদিত।

অ্যালেন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘হিট ইট অ্যাজ হার্ড অ্যাজ আই ক্যান’ অর্থাৎ বলকে যতটা সম্ভব জোরে আঘাত করার চেষ্টা করি। বেসবলেও এই একই কথা বলা হয়ে থাকে। ক্রিকেটে অ্যালেনের ব্যাটিং স্টাইলকে অনেক সময় ‘বেসবল এসকিউ’র সঙ্গে তুলনা করা হয়। কারণ তিনি বলের লাইন বিচার করার চেয়ে বলকে প্রচণ্ড গতিতে আঘাতের দিকে বেশি মনোযোগী থাকেন। অ্যালেনের ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি হলো তাঁর স্থির ভিত্তি। ক্রিজে তিনি বেশি নড়াচড়া করেন না। বল ডেলিভারির সময় তাঁর পায়ের অবস্থান এমন থাকে যে শরীরের পুরো ওজন যাতে করে বলের ওপর দিয়ে পাঞ্চ করতে পারেন। ঠিক বেসবল খেলোয়াড়দের মতোই। এ কারণেই সামনের পা না বাড়িয়েও তিনি লং অন বা লং অফ দিয়ে বিশাল বিশাল ছক্কা মারতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পায়ের কাজের চেয়ে তাঁর হাতের গতির প্রভাব বেশি। বেসবল খেলোয়াড়দের মতোই তিনি ব্যাটটাকে অনেক দূর থেকে সুইং করান। হাতের ব্যাটটাকে দীর্ঘ এবং দ্রুতগতির একটি আর্ক সুইং তৈরি করেন; যা বলকে অনেক বেশি গতিতে বাউন্ডারির দিকে পাঠায়। বেসবল খেলোয়াড়দের মতোই তাঁর হাতের কবজির জোর ও চোখের সমন্বয় প্রখর। উইকেট হারানোর ভয় না করে মেরে খেলার যে দর্শন ব্র্যান্ডেন ম্যাককুলাম ক্রিকেটে এনেছেন, তাকে ‘বাজবল’ বলে মেনে নিয়েছেন সবাই। সেই একই আদর্শে অনুপ্রাণিত ফিন অ্যালেন এখন ‘আধুনিক টি২০’-এ ‘বেসবল’ও নিয়ে এসেছেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *