আর্থিক সংকট, রাইফেল-পিস্তল লকারে, বন্ধ এসএ গেমসের ক্যাম্প
চার ইভেন্টের ২০ শুটার নিয়ে ১ জুলাই বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনে শুরু হয়েছিল সাউথ এশিয়ান গেমসের (এসএ) প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। কিন্তু নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২১ জুলাই তা বন্ধ হয়ে গেছে।
ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের দাবি, হাতে টাকা নেই বলে বাধ্য হয়েই ক্যাম্প বন্ধ করতে হয়েছে। প্রথম আলোকে হায়দার বলেন, ‘ক্যাম্প বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। টাকা নেই, ক্যাম্পটা কীভাবে চালাব!’ আগের কমিটির রেখে যাওয়া শুটারদের রাইফেল-পিস্তলও বুঝে পাননি বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক, ‘আমার গুলির (রাইফেল-পিস্তল) লকার বন্ধ। আমার তো গুলি লাগবে। ওটা সিলগালা।’
জি এম হায়দার জানান, ক্যাম্পে শুটারদের থাকার ব্যবস্থাও ভালো নয়। ক্যাম্প চালু করতে হলে ডরমিটরিতে অনেক মেরামত প্রয়োজন। তাঁদের হাতে মেরামতের টাকাটাও নাকি এ মুহূর্তে নেই, ‘রুমগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে, শোয়ার বালিশ নেই। এগুলো ঠিকঠাক করতে টাকা দরকার, সময় দরকার। শুটারদের রাখলেই হবে না, তাদের খাওয়াতে হবে। আমরা ব্যাংকেও লেনদেন করতে পারছি না। সাময়িকভাবে ক্যাম্প বন্ধ করেছি, যত দ্রুত সম্ভব আবার চালু করে দেব।’
দ্রুত ক্যাম্প চালুর বিষয়ে শুটারদেরও আশ্বস্ত করেছেন বর্তমান কমিটির সদস্যরা। এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে রুপা এবং জাতীয় প্রতিযোগিতায় দুই সোনা জেতা অর্ণব শারার বলেন, ‘নতুন কমিটি আমাদের বলেছে, আমরা আগে সবকিছু বুঝে নিই। আবাসিক কিছু সমস্যাও আছে। সেগুলো ঠিকঠাক করে আবার পুরোদমে ক্যাম্প চালু করব।’
কবে ক্যাম্প চালু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে শুটাররা ক্যাম্পে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। ২০১৯ এসএ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ব্রোঞ্জ জেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন ফেডারেশন বন্ধ ছিল। শুনলাম, অনেক কিছু নষ্ট হয়ে আছে, সেগুলো নাকি ঠিক করতে হবে। তাই আমাদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। আশা করি, শিগগিরই আবার ক্যাম্পে ফিরতে পারব।’
