শিশুর জেদ মোকাবিলা করবেন কীভাবে

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৮

শিশুরা জেদ করবে এটাই স্বাভাবিক। জেদের মধ্য দিয়েই শিশু নিজের ইচ্ছা, স্বাধীনতা কিংবা অনুভূতির প্রকাশ করে। অনেক শিশুই আছে যা চাইছে তা না দিলে বাড়িতে তো বটেই, বাইরে গেলেও হাত-পা ছুড়ে কান্নাকাটি শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। শৈশব থেকেই শিশুর অতিরিক্ত জেদ কাটিয়ে উঠতে না পারলে কৈশোরকালে জেদের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তখন মোকাবিলা করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

শিশুর জেদের কারণ
একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন, শিশুদের একটা জেদ যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় কোনো জিনিস নিয়ে সে জেদ করে। দ্বিতীয়বারও যদি বাচ্চা বুঝে মা-বাবা এটাও মেনে নিচ্ছেন, তাহলে তৃতীয় কোনো জিনিস পাওয়ার জন্য সে জেদ করতে শুরু করে। এভাবেই জেদ করাটা শিশুর অভ্যাসে পরিণত হয়। শিশুরা স্বভাবগতভাবেই যে কোনো জিনিস নিয়ে জেদ করতে পারে কিন্তু বড়রা

কীভাবে সেটার মোকাবিলা করবেন তার সমাধান খুঁজে নিতে হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু যদি কিছু পাওয়ার জন্য চিৎকার করতেই থাকে হাল ছাড়বেন না। একবার হাল ছেড়ে দিলে আপনার সন্তান শিখবে সে যা চায় তাই পায়। বাইরে যদি সে এমন করে তাহলে শিশুকে এমন এক স্থানে নিয়ে যান যেখানে সে অন্যদের বিরক্ত করবে না। সে শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
মোবাইলের জেদ: বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, বড়দের মোবাইল ব্যবহার করতে দেখে শিশুও মোবাইল নেওয়ার জন্য বায়না করতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বড়দের বোঝাতে হবে মোবাইল তাদের কোনো কাজের জিনিস নয়। চিৎকার, কান্নাকাটি করলেও ভোলানোর জন্যও শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া উচিত নয়। এতে শিশুও বুঝতে পারবে যতই জেদ দেখাক, মোবাইল তাকে কেউ দেবে না।
অনেক সময় শিশুকে চুপ করাতে গিয়ে মা-বাবা ভাবেন কিছুক্ষণ মোবাইল বাচ্চাকে দিলে এমনই বা কী ক্ষতি হবে। অথচ নিজেদের অজান্তেই তারা শিশুর জেদকে প্রশ্রয় দিয়ে বসেন। এতে শিশুর জেদ করার অভ্যাস আরও বেড়ে যায়। শিশুকে ব্যস্ত রাখতেও মা-বাবা তাদের হাতে মোবাইল তুলে দেন গেম খেলার জন্য। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই কৈশোরে পড়লেই শিশুরা নিজের আলাদা মোবাইল কেনার জন্য মা-বাবার ওপর চাপ দেয়। তাকে তার বয়স অনুযায়ী খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখুন।

জাঙ্ক ফুড খাওয়ার জেদ: অনেক শিশুরই এখন বাড়ির খাবার খাওয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখা যাচ্ছে। অথচ রেস্তোরাঁ বা রাস্তার জাঙ্কফুড দেখলেই তারা খাওয়ার জন্য জেদ করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঝেমধ্যে বাড়িতেই ভিন্ন স্বাদের খাবার বানিয়ে তাদের পরিবেশন করতে পারেন। তাদের বোঝাতে হবে, জাঙ্কফুড খেলে শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে। শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে সবুজ শাকসবজি, প্রয়োজনীয় প্রোটিন সবই তাদের ডায়েটে রাখার চেষ্টা করুন। অনেক সময় তাদের সঙ্গে নিয়ে ভিন্ন ধরনের খাবার বানানোর চেষ্টা করতে পারেন। এতে তাদেরও সেই খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
পকেট মানি পাওয়ার জেদ: স্কুলগামী শিশুরা কখনও চকলেট, কখনও পিৎজা, কখনও আইসক্রিম, কখনও আবার চিপস, বার্গার ইত্যাদি খাবারের জন্য পকেট মানি পাওয়ার জেদ করতে থাকে। নিয়মিত টাকা দিলে শিশুর অভ্যাস খারাপ হবে। বরং তাকে বলতে পারেন, খাবার কিছু খেতে চাইলে আপনি কিনে এনে দেবেন। স্কুলে টিফিন খাওয়ার জন্য নিয়মিত টাকা না দিয়ে বাড়িতে বানানো সুস্বাদু কোনো খাবার বেশি করে বানিয়ে দিতে পারেন। তাহলে সে বন্ধুদের সঙ্গে সেই খাবার ভাগাভাগি করে খেতে পারবে। অন্য শিশুরাও তখন বাড়ির খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখাবে।
নতুন খেলনা অথবা গ্যাজেট কেনার জেদ: অন্য শিশুদের দেখে অথবা বিজ্ঞাপনে দেখে, শিশুরা প্রায়ই নতুন খেলনা বা নতুন নতুন গ্যাজেট কেনার জেদ করতে থাকে। শিশুর এসব জেদে পাত্তা দেবেন না। বরং তাদের জ্ঞান বাড়বে এমন সম্পর্কিত জিনিস বা বই কিনে দিতে পারেন। তাদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিন। ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, টেনিস খেলার সরঞ্জাম কিনে দিতে পারেন। এ ছাড়া ছোট থাকতেই সাঁতারে শিশুকে ভর্তি করাতে পারেন।
পড়াশোনা না করার জেদ: অনেক শিশুই পড়াশোনায় মন দিতে চায় না অথবা স্কুলের দেওয়া হোমওয়ার্ক করতে চায় না। কান্নাকাটি করে জেদ দেখিয়ে বই-খাতাও ছিঁড়ে ফেলে। এমন হলে শিশুর সঙ্গে কথা বলুন। পড়াশোনা নিয়ে তার ভীতির উৎস খুঁজে বের করুন। ক্লাসে পড়া বুঝতে ওর কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে অথবা স্কুলে অতিরিক্ত শাসনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে কিনা–তা জেনে সমাধানের পথ খুঁজুন।

সূত্র: রিলে চিলড্রেনস সেন্টার সাইকোলজি টুডে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *