ডাকসু নির্বাচন, কাদেরকে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুক পেজে এনসিপির পোস্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদেরকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে দলটির ভেরিভাইড ফেসবুক পেজ থেকে এ পোস্ট দেওয়া হয়।

পোস্টে কাদেরের গ্রেপ্তার হওয়ার একটি ছবি সংযোজন করা হয়। ছবিতে কাদেরকে লাল বৃত্তে চিহ্নিত করা হয়। ছবির বিষয়ে পোস্টে বলা হয়, ‘লাল মার্ক করা এই ছেলেটা আব্দুল কাদের। মনে আছে, বুয়েটের আবরার ফাহাদের কথা, দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় যাকে ছাত্রলীগ পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল? ২০২২ সালের অক্টোবরে সেই আবরার ফাহাদের শাহাদাৎবার্ষিকীতে প্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করে আব্দুল কাদেররা। সেখানে ছাত্রলীগ বর্বর হামলা চালালে আহত হয়ে কাদেররা। ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেলে। সেখানেও ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে কাদেরকে শাহবাগ থানায় পুলিশে দেয় এবং মধ্যরাতে কাদের জেলের ভেতর খবর পায় যে তার নামে দুই দুইটা মামলা দিয়েছে ছাত্রলীগ। তারপর টানা ৩২ দিন জেলে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র তৃতীয় বর্ষের একটা ছেলের কী এক দুর্বিষহ জেল জীবন! জেলে থাকায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি ডিপার্টমেন্টের সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষাও।’

পোস্টে আরও বলা হয়, এটা সেই কাদের, যে কিনা জেল থেকে বের হয়েই পুনরায় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্যাতন, গণরুম, গেস্টরুমের বিরুদ্ধে রাজুতে এসে দাঁড়ায়। এই তো কদিন আগেই কাদেরের সহপাঠীরা বলা শুরু করলো যে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আমরা যখন রেগুলার ক্লাস করতাম, কাদের তখন ক্লাসরুমের বদলে বেছে নিয়েছিলো বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার মিশন। আমরা যখন পরীক্ষার হলে বসে ক্যারিয়ার গোছাতে ব্যস্ত, কাদের তখন জেলখানার চৌদ্দশিকের ভেতরে। কাদের সংগ্রাম করেছে, ন্যায়ের পক্ষে লড়েছে, জেলও খেটেছে। ঘোর ফ্যাসিবাদের যুগে ফ্যাসিবাদবিরোধী পতাকা উড়িয়েছে ফ্যাসিস্টের একদম নাকের ডগায় বসে। বারবার মারও খেয়েছে। কিন্তু দমে যায়নি।’

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এই আব্দুল কাদেরের জন্ম জুলাইয়ে নয়, ওর জন্ম জানুয়ারিতে। জুলাই হলো দিনের মধ্যভাগ। আর জানুয়ারি দিনের শুরু, যখন সুর্য ওঠে। সুর্য ওঠার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যে কয়জন মানুষ জেগে উঠে সকাল এনে দিয়েছে আমাদের, তার মধ্যে একজন হলো আব্দুল কাদের। চব্বিশের জুলাইয়ে কাদেরের অবদান আপনাদের আর নতুন করে বলার কিছু নাই। চারদিকে যখন লাশ আর লাশ, অন্যদিকে হাসিনার ধরপাকড়, পুলিশের গুলি, তখন কাদের প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিলেন- ঐতিহাসিক ৯ দফা। কাদেরের দেওয়া সেই নয় দফার কারণেই সর্বপ্রথম ভিত নড়ে উঠেছিলো হাসিনার গদির। সেই নয় দফা থেকে আসে নাহিদ ইসলামের চূড়ান্ত এক দফা।’

কাদেরের প্যানেল ও ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকে ফ্যাসিবাদের নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে লড়ে যাওয়া আব্দুল কাদের এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে লড়ছেন ভিপি (সহ-সভাপতি) পদপ্রার্থী হিসেবে। তার প্যানেলের নাম- বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ এবং ব্যালট নং-২।’

এতে আরও বলা হয়, ‘কাদের কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই নয়, এ দেশকে দিয়েছে অনেককিছুই। ছাত্রলীগের ভয়ে যখন অনেকেই নিজের পরিচয় দিত না, সেই সময়ে আব্দুল কাদের ফ্যাসিস্টের চোখে চোখ রেখে লড়াই সংগ্রাম করে জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে ছিল শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে। তাই আশা করি, এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাদেরের সুদীর্ঘ লড়াই মূল্যায়ন করবে।’

You may also like...