ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইতালির অভিষেক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩৬
ইতালীয় ভাষায় ‘আজ্জুরি’ শব্দের অর্থ নীল, যা দেশটির খেলাধুলার চিরচেনা রং। তবে এই আজ্জুরিদের ফুটবলেই বেশি চেনে বিশ্ব। টানা দুটি বিশ্বকাপ ফুটবল মিস করার পর এবারও এখন পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট মেলেনি দোন্নারুম্মাদের। প্লে অফ খেলে সেই সুযোগ মিলতে পারে। তাই ইতালির কাছে ‘বিশ্বকাপ’ বলতে এখন শুধুই ক্রিকেট!
দেশটি এবারই প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। কলকাতায় আজ তাদের বিশ্বকাপ অভিষেকে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। মজার ব্যাপার হলো এই স্কটিশদেরই বাছাই পর্বে হারিয়ে ক্রিকেটে ‘মিরাকোলো ইতালিয়ানো (ইতালীয় অলৌকিক ঘটনা)’ ঘটিয়েছে ইতালি। ‘মানুষ যখন দেখবে ইতালি ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে লড়াই করছে, তখন এটি তাদের মাঝে কৌতূহল ও বিশ্বাসের জন্ম দেবে। আমাদের লক্ষ্য ইতালির ক্রিকেট মানচিত্রে একটি উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া।’
বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানান দলটির অধিনায়ক ওয়েনইন ম্যাডসেন। তিনি জন্মগতভাবে ইতালিয়ান না হলেও সেদেশের পাসপোর্টধারী। ম্যাডসেন এক সময় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হকি বিশ্বকাপ খেলেছেন! সেই কিনা কুড়ি বছর পর অন্য খেলায়, ভিন্ন দেশের হয়ে অংশ নিচ্ছেন।
আসলে ইতালিয়ান দলটি বৈচিত্র্যে ভরা। ১৫ সদস্যের দলে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এমন কেউ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বংশোদ্ভূতদের নিয়ে গড়া এই ক্রিকেট দল। যাদের কেউ ছিলেন পিৎজা মেকার, কেউ উবারচালক, কেউ আবার ডেলিভারি বয়। কেউ বংশগত বা পূর্বপুরুষের সূত্রে কেউবা স্ত্রীর নাগরিকত্বে প্রভাবিত হয়ে ইতালিয়ান পাসপোর্ট নিয়েছেন। এই দলে থাকা জেজে স্মাটস কখনও ইতালিতেই যাননি! দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে জাতীয় দলে খেলার পর স্ত্রী ইতালিয়ান হওয়ায় সেই দেশের পাসপোর্ট নিয়েছেন। বছর সাঁইত্রিশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জানিয়েছেন আজ্জুরিদের জার্সি গায়ে তিনি যেসব ম্যাচ খেলেছেন, তার বেশির ভাগই আমিরাত বা ইউরোপের দেশে। যে কারণে ইতালিতে যাওয়া হয়নি তাঁর। ব্যাটার জাসপ্রীত সিংয়ের জন্ম ভারতে হলেও বেড়ে ওঠা ইতালিতে। ক্রিকেট তাঁর নেশা হলেও পেশায় তিনি উবারচালক। পাকিস্তানের জাইন আলিও ঠিক তেমনই– বেড়ে উঠেছেন ইতালিতেই। শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার ক্রিশান কালুগামাগে ১৫ বছর বয়সে ইতালিতে পাড়ি জমান। পিৎজা মেকার ক্রিশান কাজের ফাঁকে ক্রিকেট খেলে থাকেন।
ইতালিয়ান দলটিতে পেশাদার ক্রিকেটারও রয়েছেন। ম্যাডসেন ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব ডার্বিশায়ারের হয়ে খেলে থাকেন। দলে থাকা দুই ভাই হ্যারি আর বেন মানেন্তি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ। আসলে তাদের দাদা ইতালিয়ান, তাই দ্বৈত পাসপোর্ট নিয়েছেন তারা। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় তারা একসঙ্গে হয়ে থাকেন। মূলত ইউরোপের বাছাই পর্বগুলো খেলে অভ্যস্ত তারা। দলটিতে আছেন কারখানার শ্রমিকও। যারা এই বিশ্বকাপে খেলার জন্য ছুটি নিয়ে ভারতে এসেছেন। ‘ক্রিকেটবিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলা আমাদের জন্য একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। আমাদের এই দলটি একটি পরিবারের মতো।’ ইডেন গার্ডেনসে নামার জন্য মুখিয়ে আছেন কালুগামাগে। আর বোলার বেন মানেন্তি তো ইতালির ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে মজা করে বলেই দিয়েছেন আপাতত ক্রিকেটকে সমর্থন করার জন্য। তবে নতুন বলে একেবারে উপেক্ষা করার মতো দল নয় ইতালি। বিশ্বকাপের দুই প্রস্তুতি ম্যাচে তারা আরব আমিরাত আর কানাডাকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে।
